সব

ওমানে হরেকরকম বর্ণিল রঙে বর্ষবরণ

নাসির জুয়েল, ওমান থেকে

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্যরবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটকে নন্দিনীর ভালোবাসার মানুষ রঞ্জন। যে কিনা নন্দিনীর ভাষায়, যেখানে যায় ছুটি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আর তাতেই যক্ষপুরীর খোদাইকরেরা কাজ ভুলে গান গাইতে শুরু করে। তো সেই সহজ আনন্দের রঞ্জনকে যক্ষপুরীর সর্দারেরা, তার সারেঙ্গিখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে, খনির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় খোদাইকরদের সঙ্গে সোনার তাল তুলবার জন্য। রঞ্জন ঢুকেই দেখে, সেখানে আলো নেই, হাওয়া নেই। কেবল বিষণ্ন মুখ খোদাইকরেরা কোদাল দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে সোনার তাল তুলছে। রঞ্জন বলে, আজ আমাদের গান হবে। খোদাইকরেরা বলে, সারেঙ্গি নেই, গান গাইবে কেমন করে? রঞ্জন জবাব দেয়, সারেঙ্গি নেই তো কি হয়েছে, কোদালে কোদাল ফেলে সুর তুলব।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্যএই মরুর দেশে আমাদেরও হয়েছে কোদালে কোদাল ফেলে সুর তুলবার দশা। প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখার সব সরঞ্জাম এখানে সহজে মেলে না। ধরুন, হারমোনিয়াম মিলল তো তবলচি নেই। তবলচি পাওয়া গেল তো বাঁশি কই? এমন দশা। উপকরণ যদি বা মিলল, রিহার্সাল করবেন কোথায়? সবাই ৮০ বা ১০০ কিংবা ২০০ কিলোমিটার দূরে। সবাইকে যদি-বা এক করা গেল তো সেরকম উপযুক্ত মঞ্চই বা কোথায়। এতসব না থাকাকে উজিয়ে আমাদের এবারের বর্ষবরণ হলো এই মরুর দেশে। একটি অসামান্য সন্ধ্যা আমরা কাটালাম।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্যবৈশাখের গানটির পরে শুরু হলো পঞ্চকবির গান। রবীন্দ্রনাথ, রজনিকান্ত, অতুলপ্রসাদ, ডি এল রায় ও নজরুল। ঊষর মরুতে জলের ঘোর-লাগা মানুষের কাছে হঠাৎ জলের দেখা পাওয়া, আর বন্যায় প্লাবিত মানুষের জল দেখা—এই দুইয়ে যে আকাশ-পাতাল তফাত, তা নিজের কাছে ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সে এক অনির্বচনীয় ইন্দ্রজাল। পঞ্চকবির গানের পরে ‘উত্তরকালের মহাপ্রাণ’ শিরোনামে শুরু হলো শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। অসামান্য। যেন অবন ঠাকুরের ক্ষীরের পুতুলের সব চরিত্ররা উঠে এল। এরপর গীতিআলেখ্য। বাংলাদেশ নামের শ্যামল দেশটি যারা ছেড়ে আসেন, তারা প্রত্যেকে তাদের হৃদয়ে বহন করে বেড়ান একেকটি নিজস্ব বাংলাদেশ।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্যবৈশাখ যেহেতু তার সমস্ত ইশারা, বাকি সব ঋতুগুলোর দিকে মেলে রেখে, তার পাট চুকিয়ে, বিদায় নেয়। তাই শেষ হলো আমাদের এই তীর্থের সংবেদনা ষড়্ঋতুর গান দিয়ে। ছয়টি ঋতুকে নিবেদিত ছয়টি গান। অগত্যা আবারও রবীন্দ্রনাথ (বাঙালি ওঁর বাইরে কোনো দিন বেরোতে পারবে বলে মনে হয় না)!
রাজধানী মাসকাট থেকে দক্ষিণ পূর্বের সুর শহরে সেদিন বসেছিল এক মিলনমেলা। লাল-সাদা আর হরেকরকম বর্ণিল রঙে সেজেছে যেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল ‘বাংলাদেশকে জানো’ নামের শিশু কিশোরদের প্রশ্নোত্তর পর্ব, আহার-বিহার, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী পন্যসামগ্রী, প্রদর্শনী, বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার বিতরণী, র‍্যাফেল ড্রসহ আরও কত কী!
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্যএটা এমন একটা আয়োজন যেখানে, কোথাও গিমিক দেখিয়ে দর্শকদের চমকে দেওয়ার কোনো চিন্তা নেই, দর্শকদের খাওয়ানোর কোনো চেষ্টা নেই। তারা অনুভব করলেন এবং গভীরভাবে অনিঃশেষ এক রেশ নিয়ে ফিরে গেলেন।বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য

প্রত্যাশা ও নিয়তির বিধান

প্রত্যাশা ও নিয়তির বিধান

প্যারিসে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী

প্যারিসে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী

দুবাইয়ে বাংলা লাইব্রেরি

দুবাইয়ে বাংলা লাইব্রেরি

ভিয়েনায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন প্রবাসীরা

ভিয়েনায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন প্রবাসীরা

মন্তব্য ( ২ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

নৈর্ব্যক্তিক সংবেদ

ছোটগল্প নৈর্ব্যক্তিক সংবেদ

অনেক দিন পর অফিসের ব্যস্ততার ফাঁকে রূপম আজ সময় পেল জমে থাকা চিঠিগুলো পড়ার।...
নিবেদিতা পুণ্যি
জ্যোৎস্নাময় রাত আছে জোনাকি নেই

জ্যোৎস্নাময় রাত আছে জোনাকি নেই

কুয়ালালামপুরের চায়নাটাউনে আমরা থাকি প্রায় চার-পাঁচ শ বাঙালি। পর্যটকদের কাছে...
রফিক আহমদ খান, কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া) থেকে
প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে পাঠানো হোক

প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে পাঠানো হোক

পৃথিবীতে মানুষ আসে একা, চলেও যায় একা। এটা নিয়তি, এটাই বাস্তবতা। সবাই চান...
মাহবুব সুয়েদ, পর্তুগাল থেকে
বেলজিয়ামে সিলেট বিভাগ প্রবাসী সমাজকল্যাণ সমিতির সভা

বেলজিয়ামে সিলেট বিভাগ প্রবাসী সমাজকল্যাণ সমিতির সভা

বেলজিয়ামে প্রবাসী বৃহত্তর সিলেটবাসীর উপস্থিতিতে সিলেট বিভাগ প্রবাসী সমাজ...
আবু তাহির, ব্রাসেলস (বেলজিয়াম) থেকে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info