সব

গল্প

নীলিমার জন্য উপহার

বিন্দু সাহা
প্রিন্ট সংস্করণ

অলংকরণ: তুলিসেদিন বাবা নীলিমার জন্য দুটি গাছ নিয়ে এলেন। নীলিমা গাছ দুটি পেয়ে ভীষণ খুশি হলো। ওকে সবাই অনেক কিছুই কিনে দিয়েছে। কিন্তু গাছ কখনো উপহার দেয়নি। বাবাই প্রথম ওকে গাছ উপহার দিলেন। নীলিমা আর বাবা মিলে খুব আনন্দের সঙ্গে বারান্দায় দুটি টবে গাছ দুটি লাগিয়ে দিলো। নীলিমা প্রতিদিন দুই বেলা গাছে পানি দেয়। গাছের প্রতি সতর্ক নজরও রাখে। যেন পিঁপড়া গাছের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। গাছের সঙ্গে কথাও বলে। সেদিন পিকলু ভাইয়া বলল, গাছ নাকি গান শুনতেও ভীষণ ভালোবাসে। শুনে তো নীলিমা অবাক! তাও আবার হয় নাকি?
পিকলু ভাইয়া বলল, ‘কেন হবে না? গাছের তো জীবন আছে। তাহলে ও গান শুনতে পারবে না কেন?’
পিকলু ভাইয়া কে, তা তো বলা হয়নি। পিকলু ভাইয়া হলো নীলিমার মামাতো ভাই। কলেজে পড়ে। অনেক বুদ্ধি। অনেক কিছু জানে।
ভাইয়ার কথা শুনে নীলিমা খুব খুশি হলো। নীলিমা প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে গাছগুলোকে আদর করে। গান গেয়ে শোনায়। কিন্তু একদিন নীলিমার মনে হয়, ওর গান শুনে গাছগুলো খুশি হয় কি না তা তো ও বুঝতে পারছে না।
সন্ধ্যায় বাবা অফিস থেকে ফিরলে নীলিমা ছুটে যায় বাবার কাছে। ‘বাবা, বাবা, পিকলু ভাইয়া বলেছে, গাছ নাকি গান শুনে আনন্দ পায়। আমি তো প্রতিদিন গাছগুলোকে গান শোনাই। গাছ আমার গান শুনে আনন্দ পায় কি না, বুঝব কী করে?’
বাবা নীলিমাকে কোলে তুলে নিয়ে বারান্দায় যান। বলেন, ‘তোমার গাছগুলো তো বেশ সুন্দর হয়েছে।’
শুনে নীলিমা ভীষণ খুশি হয়। বাবা বলেন, ‘গাছগুলো তোমার গান শুনে খুব খুশি হয়।’
নীলিমা অবাক হয়ে বলে, ‘কী করে বুঝলে?’
বাবা হাসেন। ‘দেখছ, গাছগুলো কী সুন্দর হয়েছে! তুমি যে ওদের ভালোবেসে গান শোনাও, তাই তো ওরা সজীব হয়ে উঠেছে।’
বাবার কথায় নীলিমার মনটা ভরে যায়। গাছদের প্রতি ওর ভালোবাসা গাছেরা বুঝতে পারছে। আনন্দে নীলিমা পাতাগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। একদিন গাছগুলোতে কলি আসে। নীলিমা আনন্দে নাচতে থাকে। তারপর একদিন ফুলও ফোটে। সাদা সাদা বেলি ফুল আর লাল লাল জবা ফুল। লাল আর সাদায় বারান্দাটা কেমন সেজে ওঠে! মাঝে মাঝে বারান্দায় কিছু পাখিও আসে। গাছ লাগানোর আগে ওরা কখনো আসত না। দুদিন পর ফুলগুলো একে একে ঝরে যেতে লাগল। তাই দেখে নীলিমার কী মন খারাপ! মা যতই বলেন এই ফুলগুলো ঝরে গিয়ে আবার নতুন কলি আসবে, তবু নীলিমার মন ভালো হয় না। মা কত আদর করেন, গান শোনান, গল্প বলেন। কিন্তু নীলিমার মন পড়ে থাকে ফুলগুলোর কাছে। আহারে, কী সুন্দর ফুলগুলো! এভাবে ঝরে যাবে! অফিস থেকে বাবা ফিরলে নীলিমা বাবাকে বারান্দায় নিয়ে যায়। ‘বাবা দেখো, ফুলগুলো ঝরে যাচ্ছে।’
বাবা বলেন, ‘এটাই নিয়ম। এগুলো ঝরে যাবে। আবার নতুন কলি আসবে। ফুল ফুটবে। তারপর সেগুলোও ঝরে যাবে। এভাবেই চলবে। মানুষ, পশুপাখি—সব প্রাণীর ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। তবে ফুলগুলোর সৌন্দর্য ও সুবাস তোমার মনে রয়ে যাবে।’
‘মানুষের কাজের সৌন্দর্য ও সুবাসও কি অন্য মানুষের মনে থেকে যায়, বাবা?’
বাবা বলেন, ‘হ্যাঁ, মা।’
নীলিমা ঝরা ফুলগুলোকে বিদায় জানিয়ে নতুন ফুলের অপেক্ষায় থাকে।

 

একদিন বৃষ্টিতে

একদিন বৃষ্টিতে

রাজার পাহাড়

রাজার পাহাড়

পাখিদের পরিবার

পাখিদের পরিবার

মন্তব্য ( ১ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

বিড়ালের হাসি

বিড়ালের হাসি

আগে সব সময় সদর রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতেন হক সাহেব। কিন্তু বর্তমানে শুধু...
মরিয়ম আক্তার
চড়ুই পাখির ছানা

চড়ুই পাখির ছানা

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় যেমন আছে চমৎকার ছন্দ, তেমনি তাঁর লেখার ভেতর একটা...
কাজী নজরুল ইসলাম
পাখিদের পরিবার

পাখিদের পরিবার

মা পাখিটার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। গতকালের ঝড়ে সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। তিনটি...
অপূর্ব চৌধুরী
বিশ্বে মোটা চালের দাম বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি

বিশ্বে মোটা চালের দাম বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি

মোটা চালের দাম বিশ্বে এখন বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। এরপরই আছে পাকিস্তান, তাও...
ইফতেখার মাহমুদ মন্ত্যব্য
শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানদের কাছে এই মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। গতকাল...
বিশেষ প্রতিনিধি
তামিম-ঝড়ের পরও এমন হার!

বাংলাদেশ–পাকিস্তান প্রস্তুতি ম্যাচ তামিম-ঝড়ের পরও এমন হার!

এজবাস্টনে কাল দুটো ঝড় উঠল। প্রথমটা তুললেন তামিম ইকবাল। তাতে বাংলাদেশও উঠে...
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন

ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন

সুপ্রিম কোর্টের মূল প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া ভাস্কর্যটি কোর্টের বর্ধিত...
নিজস্ব প্রতিবেদক মন্ত্যব্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info